বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

আবারও আলোচনায় রোকন মেম্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক
“ধরবো মাছ ছুইবোনা কাদা নাম আমার শাহাজাদা” এই তত্ত্বে বিশ্বাসি কুতুব পুরের ইউপি রোকন উদ্দিন পর্দার আড়ালে থেকে ভেতর থেকে নানা অপকর্মের জন্ম দিলেও বরাবরই রয়ে যাচ্ছেন আলোচনা- সমালোচনার বাইরে।
তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় মুখ খুলতে শুরু করেছে অনেকেই। জনস্বার্থবিরোধী, হঠকারী সিদ্ধান্ত ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমেই শুরুতেই পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ‘সুযোগসন্ধানী’ রোকন দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত রয়েছেন বিএনপি’র রাজনীতির সাথে। তবে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে ফায়দা লুটতে ২০১৭ সালে মঞ্চস্থ করেছেন আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার নাটক। কিন্তু অনুসন্ধান করে দেখা যায়, রোকন উদ্দিন এখনও কুতুবপুরের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
একাধিক সূত্রমতে, বিএনপি’র পদধারী এই নেতা আঁতাতের রাজনীতি করতেই দলের সাথে বেঈমানী করে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার নাটক করেছেন। অথচ রোকনকে সবাই চেনেন কট্টর বিএনপি নেতা হিসেবেই।
শুধু তাই নয়, একসময়ের প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা শফিকুর রহমান মেছের হত্যা মামলারও এজহারভুক্ত আসামী রোকন। ১৯৯৭ সালে মেছের হত্যার পরেই ফেরারী আসামী হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান রোকন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় আর দেশে ফেরেননি তিনি। অভিযোগ রয়েছে, মেছের ছাড়াও আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী হত্যা ও নির্যাতনের সাথে রোকন ও তার বাহিনী সরাসরি জড়িত।
সূত্র আরো জানায়, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তার কিছুদিন  পরেই দেশে ফেরেন রোকন। শুরু করেন নানান অপকর্ম। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচারের ষ্টীমরোলার চালাতে দেখা যায় রোকনকে। শুধু তাই নয়, তৎকালীন সময়ে রোকনের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে ফেনসিডিল ব্যবসা চলেছে। নয়ামাটির একটি বিশাল পুকুরের নিচে ফেনসিডিল মজুদ রেখে রমরমা মাদক ব্যবসা করেছেন রোকন।
রোকনের ভাই জসিম উদ্দিনকে নিয়েও বিতর্কের শেষ নেই। জসিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ দখলে রেখেন কয়েক দশক ধরে। যদিও অধিকাংশ নেতাকর্মী তাকে অযোগ্য ও দায়িত্বজ্ঞান হিসেবে চিহ্নিত করেন। মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেওয়া, মাদক ব্যবসার মাসোয়ারা গ্রহণ, আঁতাতের রাজনীতির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। অতি সম্প্রতি এক মাদক ব্যবসায়ীর সাথে জসিমের যোগসাজসের অডিও ক্লীপ ভাইরাল হয়। সেখানে জসিমকে স্পষ্টভাবেই বিভিন্ন মাদকের স্পটের বখরা চাইতে ও মাদকদ্রব্য ঠিকঠাক জায়গামতো সরবরাহ করতে নির্দেশ দিতে শোনা যায়। তাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পরেও বিএনপি’ আমলে দলকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেছেন রোকন। ওই সময়ে ত্রাণের টিন চুরি করে ধরাও পড়েন তিনি।
বর্তমানে ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রোকন তার অপকর্ম থামাননি। একাধিকবার তার বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল আত্মসাৎসহ অসংখ্য দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি গত বছরের ১২ এপ্রিল ত্রাণের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে মিছিলও হয়েছে রোকনের বিরুদ্ধে। মিছিলে উপস্থিত থাকা সহস্রাধিক জনসাধারণের অভিযোগ ছিল, রোকন মেম্বার গরিবদের ত্রাণ দেন না। বরং তার কাছের লোকেরাই পায় ওই ত্রাণ। ত্রাণের দাবিতে রোকনের কাছে গেলে তিনি গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ তাদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সুবিধাবাদী রোকন তার ভাই জসিম উদ্দিনের পরামর্শে যাবতীয় অপকর্ম ধামাচাপা দিতে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার নাটক করেছেন। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর দেলপাড়ায় এক জনসভায় তৎকালীন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরুর হাতে নৌকার আদলে ফুল তুলে দেন রোকন। এসময় মঞ্চে ছিলেন  সাংসদ শামীম ওসমান, জেলা আওয়ামী সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল,  মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু প্রমুখ।
 রোকনের যোগদান নিয়ে তখন জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ছাত্রলীগ নেতা হত্যার দায়ে অভিযুক্ত, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তি কীভাবে একজন মন্ত্রী ও সাংসদের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন, তা নিয়ে আলোচনা চলে জোরেশোরে। বিএনপি’র ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি রোকন  কোন জাদুবলে পদত্যাগ না করেই এভাবে যোগ দিয়ে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করেন, সেই প্রশ্নও জনসাধারণের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তারা বলছেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, সুবিধাবাদী রোকনের মতো হাইব্রীড ব্যক্তিরা আখেরে দলের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এ ব্যাপারে রোকন উদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD