সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

আহত নেতাকে দেখতে গিয়ে ফাঁসলেন ছাত্রনেতা সাগর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার পল্টনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল আহত মামুন মাহমুদকে দেখতে যাওয়া জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি সাগর সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের পর চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা কর্মীকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর নিউ মার্কেটের ঘটনায় মকবুলকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ছাত্রদল সহ-সভাপতি সাগর সিদ্দিকীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশে যোগদান করেন। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে দুপুর ১২টায় সাগর সিদ্দিকী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদকে দেখতে যান। সেখানে যাওয়ার পর পুলিশ সাগর সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানায় নিয়ে যায়। সন্দেহজনক হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
সাগর সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
এদিকে সোস্যাল মিডিয়ায় একটি পক্ষ মামুন মাহমুদকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনায় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর জড়িত থাকার মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে দলের একটি পক্ষ।
পল্টন থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো তদন্তনাধীন। এটি কোন ছিনতাইকারী গ্রুপের দ্বারা সংগঠিত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির আভ্যন্তরীন কোন্দলকে মাথায় রাখা হয়েছে। এ মুহুর্তে ছুরিকাঘাতের বিষয়টি কে বা কারা ঘটিয়েছে তা নিরুপন করা সম্ভব হয়নি। বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে।
ওদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, মামুন মাহমুদ বিএনপির কমিটি নিয়ে সারা জেলায় ক্ষোভের সঞ্চার করেছেন। প্রতিটি থানা কমিটি নিয়েই রয়েছে তার উপর ক্ষোভ। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত মামুন মাহমুদ রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
প্রসঙ্গত: গত ১৫ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি সম্মেলনে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী নাসিক ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা ইকবালের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়। পন্ড হয়ে যায় থানা বিএনপির সম্মেলন। ওই ঘটনার পর থেকে মামুন মাহমুদ বিএনপি থেকে গিয়াস উদ্দিনের বহিস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবি তোলেন। স্থানীয় নেতারা মনে করছেন ওই ঘটনার জেরে মামুন মাহমুদের উপর হামলা হতে পারে।
নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD