কুতুবপুরের চেয়ারম্যান সেন্টুর নয়া মিশন

87
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টুকে নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা যেন থামছেই না। এবারের কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। খোদ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ওই সময়ে মন্তব্য করেন ‘সেন্টু তারেক রহমানের লোক।’  সরকারবিরোধী নাশকতা, জ্বালাও- পোড়াও মামলার আসামী সেন্টুকে নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও  নৌকায় করেই নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দেন তিনি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই সেন্টু এবার নিজ বলয়ের মেম্বার প্রার্থীদের জয়ী করতে  সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে শুরু করেছেন৷
একাধিক সূত্রমতে, ৯০’ দশকে কুতুবপুরের আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা, প্রয়াত শফিকুর রহমান মেছেরের রাজনীতির বিপরীতে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন সেন্টু। যুবদল দিয়ে হাতেখড়ি হওয়া সেন্টু মেছের হত্যা মামলার প্রধান আসামী। এছাড়া আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীকে অত্যাচার, নির্যাতন, বাড়িঘর লুটপাটের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। সেই সেন্টুই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে চেয়ারম্যান পদ টিকিয়ে রেখেছেন৷ আর এই দফায় তিনি চাচ্ছেন যেকোনো উপায়ে পছন্দের প্রার্থীদের মেম্বার পদে জয়লাভ করাতে৷
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, নিজ বলয়ের বাহিরের কেউ মেম্বার পদে পাশ করুক, এমনটি চান না সেন্টু। ইতোমধ্যে তিনি বলয়ের বাহিরের প্রার্থীদের সমঝোতা করতে চাপ প্রয়োগ করা শুরু করেছেন৷ ক্ষেত্রবিশেষে দিচ্ছেন হুমকি। এছাড়া নিজস্ব লোকেদের মাধ্যমে নানাভাবে প্রার্থীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করছেন৷
কুতুবপুরে সেন্টু’র সমর্থিত মেম্বার প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ২নং ওয়ার্ডে মিন্টু ভূঁইয়া, ৩ নং ওয়ার্ডে জেলা যুবদলের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, ৪নং ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর আলম, ৫নং ওয়ার্ডে আলাউদ্দিন হাওলাদার, ৬নং ওয়ার্ডে একসময়ের বিএনপি নেতা রোকনউদ্দিন, ৮নং ওয়ার্ডে যুবদল নেতা শেখ জুয়েল, সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে অনামিকা হক। এদের মধ্যে কয়েকজন আওয়ামী ঘরানার হলেও তারাও সেন্টু বলয়ে রয়েছেন৷ এমনকি এবারের নির্বাচনে সেন্টুকে নৌকায় উঠাতে আওয়ামী ঘরানার মিন্টু ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আলাউদ্দিন হাওলাদার, রোকনউদ্দিনকে প্রকাশ্যে কাজ করতে দেখা গেছে। বিগত ২০১৬ সালের নির্বাচনেও এদের কেউ প্রকাশ্যে, কেউবা গোপনে সেন্টু’র আনারস মার্কার পক্ষে কাজ করেছেন৷ আর তারই প্রতিদান হিসেবে এদেরকে যেকোনো মূল্যে মেম্বার পদে জয়লাভ করাতে চাচ্ছেন সেন্টু।
জানা যায়, সেন্টুর প্রভাবে এরা সকলেই দোর্দণ্ড প্রতাপে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সেন্টুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম নজু সম্প্রতি এক বক্তব্যে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে অশ্রাব্য ভাষায় খিস্তিখেউড় করেন। এমনকি তাকে জুতাপেটা করতে বলেন জনসাধারণকে। নিজেকে ‘অনেক ক্ষমতাবান’ উল্লেখ করতেও দেখা যায় তাকে। নজুর বিরুদ্ধে জমি দখল, আত্মসাৎ, প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। তার এত ক্ষমতার উৎস হিসেবে সেন্টুকেই চিহ্নিত করছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
৫নং ওয়ার্ডে সেন্টুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আলাউদ্দিন হাওলাদার ইতোমধ্যে প্রভাব দেখিয়ে আলোচনায় আছেন৷ ক্ষমতার দাপটে নানা বিতর্কিত কাজ করে দেশব্যাপী ভাইরালও হন তিনি। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, জুয়ার বোর্ড পরিচালনা, নিজ কার্যালয়ে পৈশাচিক কায়দায় দুই যুবককে নির্যাতন, নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে৷
৬নং ওয়ার্ডে সেন্টুর আত্মীয়, নব্য লীগার রোকন মেম্বারও মেছের হত্যা মামলার আসামী। ওই হত্যাকাণ্ডের পরে দীর্ঘদিন বিদেশে পালিয়ে ছিলেন তিনি। এরপর দেশে ফিরে সেন্টুর প্রভাবে মেম্বার হলেও বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি৷ মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেওয়া, ত্রাণ প্রদান্ব গড়মিল, স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত রোকন ভোটের মাঠে বেশ প্রভাব দেখাচ্ছেন।
৮নং ওয়ার্ডে শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে ট্রাক স্ট্যান্ডের আড়ালে মাদক ব্যবসা, মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশত হলেও সেন্টুর আশীর্বাদে তিনিও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন৷
এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে রয়েছেন অন্যান্য প্রার্থীরা। এভেল প্লেয়িং ফিল্ড চেয়ে অনেক প্রার্থীই দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন৷ অন্যদিকে ভোটারেরাও রয়েছেন আতঙ্কে। সবমিলিয়ে কুতুবপুরে ভর করেছে সেন্টু আতংক। সেন্টুর পছন্দের প্রার্থীদের দাপটে অন্যান্য প্রার্থীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন৷
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান সেন্টুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিউজটি শেয়ার করুন...