চলে গেলেন নায়ক সাত্তার

235

নারায়ণগঞ্জের খবর: ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক সিনেমার নাম ‘রঙিন রূপবান’। এ ছবি দিয়ে সারাদেশে তুমুল জনপ্রিয়তা পান চিত্রনায়ক সাত্তার। তিনি আজ না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জে নিজ বাসায় এ অভিনেতা মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু।

নায়ক সাত্তার দীর্ঘদিন ধরেই সিনেমায় অনিয়মিত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছিলেন এফ আই মানিকের ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ ছবিতে। এতে সাত্তার ছিলেন দীঘির বাবার চরিত্রে।

সাত্তারের স্ত্রী কাকলী গণমাধ্যমে জানান, ২০১২, ২০১৫ ও ২০১৮ সালে তিনবার ব্রেনস্টোকে আক্রান্ত হন চিত্রনায়ক সাত্তার। তারপর থেকে তিনি প্যারালাইজড হয়ে যান। পাশাপাশি একাধিক রোগ তার শরীরে ভর করে। বিশেষ করে গত দুই বছর ধরে সাত্তার বিছানায় পড়ে ছিলেন। বছর ছয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী তাকে ৩০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। সেই টাকায় চিকিৎসা ও সংসার চলতো সাত্তারের। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় পারিবারিক গোরস্থানে নায়ক সাত্তারকে দাফন করা হবে।

চলচ্চিত্রে সাত্তারের প্রথম উপস্থিতি ১৯৬৮ সালে। লোকজ গল্পের সিনেমায় তিনি দারুণ সাফল্য পেয়েছিলেন। ইবনে মিজানের ‘আমির সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী’ ছবিতে শিশুশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তার নায়ক হয়ে ওঠার ঘটনা আরো পরে।

১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে কাজ করেন কাজী হায়াৎ-এর ‘পাগলী’ ছবিতে। আজিজুর রহমানের ‘রঙ্গিন রূপবান’, ‘অরুন বরুণ কিরণ মালা’, ‘কাঞ্চন মালা’, ইবনে মিজানের ‘পাতাল বিজয়’, চাষী নজরুল ইসলামের ‘শুভদা’, মিলন চৌধুরীর ‘রঙ্গিন সাত ভাই চম্পা’সহ সাত্তার অভিনীত চলচ্চিত্র সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শাবানা থেকে শুরু করে রোজিনা, অঞ্জু, জিনাত, কবিতা, অলিভিয়া, রানীসহ অনেক সুপার হিট নায়িকার নায়ক ছিলেন সাত্তার। তার মৃত্যুতে সিনেমাপাড়ায় শোক নেমে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Warning: A non-numeric value encountered in /home/narayang/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 352