বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

নুসরাতকে চিকিৎসা জন্য সিঙ্গাপুর নেয়ার নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জের খবর ডেস্কঃ পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টায় দগ্ধ ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে চিকিৎসা জন্য সিঙ্গাপুর নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ঢামেক বার্ন ইউনিটে নুসরাতকে দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী সচিব ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এ তথ্য জানান।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে আমি এখানে (ঢামেক বার্ন ইউনিট) এসেছি। প্রধানমন্ত্রী ওই ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিচার হবেই।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমি মাত্র নুসরাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেছি। নুসরাতের অবস্থা সম্পর্কে ওনাকে (প্রধানমন্ত্রী) জানালাম। পরে তিনি নির্দেশ দিলেন, দগ্ধ ছাত্রীকে চিকিৎসা জন্য সিঙ্গাপুরে কথা বলতে। যদি সিঙ্গাপুর তাকে নিতে রাজি হয় তাহলে দ্রুত সেখানে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সিঙ্গাপুর জেনারের হাসপাতালে সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এর আগে নুসরাতের চিকিৎসার বিষয়ে সকালে ডা. সামন্তলাল সেন জানান, আজ (সোমবার) সকালে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার (নুসরাত) শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে আমরা লাইফ সাপোর্টে দেই।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে ওই ছাত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। দগ্ধ ছাত্রীর বাড়ি সোনাগাজী পৌরসভার চরচান্দিয়া গ্রামে।

দগ্ধ ছাত্রীর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘আমার বোন সকালে আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যায়। তাকে ফুঁসলিয়ে অধ্যক্ষের নিয়ন্ত্রিত কয়েকজন শিক্ষার্থী মাদরাসার ছাদে নিয়ে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান।’

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাহ -এমন অভিযোগ এনে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।

ওই ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। অন্যদিকে আরেকটি অংশ শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে। এদিকে এ ঘটনায় গত রোববার থেকে আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মাদরাসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও অনির্দিষ্টকালের জন্য হোস্টেল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD