বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সেলিম ওসমানের কঠোর হুশিয়ারী

নারায়ণগঞ্জের খবরঃ মুক্তিযোদ্ধার ভূয়া সনদধারীদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা এ.কে.এম সেলিম ওসমান। ভূয়া সনদধারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে ১৪ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল হয়েছে। এমন আরো অনেক আছে। আমি পরিস্কার ভাবে বলতে চাই যারা ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়ে সনদ নিয়েছেন তারা নিজেরা সেই সকল সনদ নিজ উদ্যোগে বাতিলের আবেদন করেন। নয়তো আপনাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। রাজাকারের থেকেও বেশি ধিক্কার আপনারা পাবেন। পাকিস্তানিদের মত আপনাদেরও বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবেনা। কারন এদের কারনেই আসল মুক্তিযোদ্ধারা অনেক সময় অসম্মানিত হয়ে থাকেন। আর যারা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে না তারা বাংলাদেশকেও ভালবাসে না।

রোববার ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের ১৮তম শ্যূটিং প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান ও বন্দর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, নানা কারনে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সবাই হয়তো সমাজে একই স্তরে নেই। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের কোন দল নাই। আমাদের একটাই পরিচয় আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে কাজ করছি। আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। স্বাধীনতার পর আমরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর পায়ে অস্ত্র জমা দিয়ে শেষকে উন্নয়ন করার শপথ করেছি। আমরা সেই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা তখন কোন সনদ বা ভাতার আশা করি নাই। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের মা বাবার বিয়ে হয়নি তারাও মুক্তিযোদ্ধার সনদের জন্য আবেদন করে তারাই আবার ভাতা নিয়ে হৈচৈ করে। গত ২১টি বছর একটি চক্র ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। স্বাধীনতার ঘোষককে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। রাজাকারের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে। সেই সকল লোকদের আপনারা আশেপাশে রাখবেন না। ছদ্মবেশে মোস্তাক আহম্মেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ছিলেন। ঠিক তেমনি ভাবে এরাও ছদ্মবেশে আমাদের সাথে মিশে থাকে আপনারা সে দিকে লক্ষ্য রাখবেন। বঙ্গবন্ধুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করেছেন। মৃত্যুর পর আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হয়, হয়তো মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একই রকম কবর করা হবে। এতে করে যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক মুক্তিযোদ্ধারা বেচে থাকবেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হলে যারা ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে তাদেরকে প্রতিহত করা আরো সহজ হবে। আগামী জানুয়ারী মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখান আমরা সকলে একত্রিত হবো। আমরা আলোচনা করবো। তাহলেই ভূয়াদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। ওই অনুষ্ঠানের জন্য আপনারা এক কপি করে ছবি আর ১০টাকা করে দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করবেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, দিনে দিনে জীবিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আমি আপনাদের প্রতি অনুরোধ রাখবো প্রতি উপজেলা এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে ছবি তুলে সেগুলো উপজেলার কার্যালয় গুলোতে টানিয়ে রাখার অনুরোধ করছি। মুক্তিযোদ্ধাদের চেহারা গুলো আমাদের ধরে রাখতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার গড়তে কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের সকলের উচিত প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানানো। কেন আমরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে ছিলেন। আপনারা কে কোথায় কিভাবে যুদ্ধ করেছেন। কেন আমরা সেচ্ছায় শহীদ হতে গিয়ে ছিলাম, যারা বেচে ফিরেছি তারা গাজী হয়েছি। এসব কিছুই আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে জানাতে হবে। যাতে করে আলবদররা বর্তমান প্রজন্মের কাছ থেকে কোন সুযোগ না নিতে পারে। পরাজিত শক্তিরা এখনো শেষ হয়নি যায়নি। ওরা মীর জাফর ও মোস্তাকদের মত আমাদের সাথে মিশে আছে। এদের সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্ম সচেতন করতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর শততম জন্ম বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা আগামী মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী পালন করবো। বন্দরে দলমত নির্বিশেষে সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা এমন ভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন করবো যাতে করে সারা বাংলাদেশ বন্দর উপজেলাকে অনুসরন করে। আপনারা সেই ভাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তাদেরকে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।

নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধাদের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব সফলতার দিক থেকে ঢাকা রাইফেল ক্লাবের থেকেও এগিয়ে আছে। আজকে রাইফেল ক্লাবের মাঠ মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনে লাল সবুজে পরিণত হয়েছে। আজকের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এ আয়োজন আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সেটা ধরে রাখতে চাইবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে মুক্তিবার্তা দিয়েছেন এছাড়াও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল আমাদের সাথে মিশে মুক্তিযোদ্ধার কোটা সুবিধাকে বন্ধ করে দিয়েছে। কাদের মোল্লাকে শহীদ বলে সংগ্রাম পত্রিকা দৃষ্টতা দেখিয়েছে। আপনারা অন্তত নিজেদের ঘরে ঘুমানোর সময় আপনাদের নাতি নাতনিদের সাথে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্প করুন কেন কিভাবে কিসের জন্য আপনারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে ছিলেন। তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধে চেতনা সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খালেদ হায়দার খান কাজল, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জুলহাস ভূইয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা।

বন্দরে উপজেলা নির্বার্হী কর্মর্কতা শুল্কা সরকারের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এম.এ রশিদ, বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এর সাবেক কমান্ডার আব্দুল লতিফ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, নারী ভাইস চেয়ারম্যান সালিমা হোসেন শান্তা, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন সহ অন্যান্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD