সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

মন্ত্রীকে ডিএনডিবাসীর দুর্ভোগ দেখে যেতে বললেন শামীম ওসমান 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিএনডি সমস্যা সমাধানে চলমান বৈঠক থেকেই পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম কে ফোন করলেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।  জলাবদ্ধতায় ডিএনডিতে  চরম ভোগান্তিতে আছে বাসিন্দারা। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পর্যায়ক্রমে জলাবদ্ধতায় ভুগছে তারা। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  প্রায় ১৩শ  কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
রবিবার বিকাল তিনটায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, এলজিআরডি, র‌্যাব, পুলিশ, সড়ক ও জনপদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টারা।
ওই সময় শামীম ওসমান মুঠোফোনে পানি সম্পদ মন্ত্রীকে  বলেন, দ্রুত ডিএনডির জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানের জন্য ডিএনডি এলাকায় এসে পরিদর্শণ করে যান। তাৎক্ষণিক মন্ত্রী বিষয়টি আমলে নিয়ে আগামী রবিবার সরেজমিন ডিএনডি এলাকাটি পরিদর্শনে আসবেন বলে  উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করেন।
এক পর্যায়ে শামীম ওসমানের মোবাইল ফোন থেকে উপস্থিত সকলের প্রতি  বক্তব্য রেখে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, শামীম ওসমান আন্তরিক ডিএনডির জন্য। আমি আগামী রবিবার আপনাদের সমস্যা সরেজমিন পরিদর্শন করব। ইতিমধ্যে আপনাদের সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী প্রায়১৩ শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যে বরাদ্দ আনতে আপনাদের এমপি রাতদিন কাজ করে করেছেন। কাজ চলছে। আপনারা জানেন ডিএনডি মূলত ইরি চাষের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু মানুষ এখানে বসতি গড়ে তোলে।  কত খাল ছিল এগুলো দখল হয়ে আছে । এছাড়া আরো সমস্যা আছে। সকলের সাথে সমন্বয় করে সরেজমিন দেখে ডিএনডি সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করব।
বক্তব্য শেষ করার আগে শামীম ওসমান ডিএনডি ভেতরে কিন্তু প্রজেক্টের বাইরে জলাবদ্ধতা এলাকার জন্য আরো বরাদ্দ দাবি করেন। মন্ত্রী সেই সময় পুনরায় আশ্বাস দেন এমপিকে। সভায় শামীম ওসমান উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের এক্সপোর্টের ২৫ শতাংশ আমার এই এলাকা থেকে হয়। সেকারনেই টাকা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু খালটা একদিকে পরিষ্কার করা হচ্ছে আরেকদিকে ভরে যাচ্ছে।  লিংক রোডের কাজের জন্য প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তায় আমরা বালু ভরাট করছি। ওই আট কিলোমিটার রাস্তায় ডিএনডির যে খালগুলো তাদের কোন সংযোগ আছে কী না আমরা তা জানি না কারন আমরা টেকনিক্যাল পারসন না।
ডিএনডি প্রকল্প প্রধান প্রজেক্ট ডিরেক্টর তাকভিম  বলেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো ৩৬ টি ক্যানেলে যেসব এলাকায় জরাবদ্ধা সেই পানি আসতে পারছে না।  কারণ খাল ওপরে এলাকার নীচে। এছাড়া খাল দখল বারবার হচ্ছে। ময়লা ফেলে বারবার খাল ভরাট করা। ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নীচ দিয়ে তিনটি পানি নিষ্কাশনের পয়েন্ট রয়েছে। সেগুলো বিশ্বরোডের উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমরা প্রকল্পের বাইরে গিয়ে জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনে ৪ টি হাই পাওয়ার পাম্ম দিয়েছিল যেগুলো দিয়ে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ৪৫০০ লিটার পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ৮০ টি ওপরে ছোট বড় পাম্প চলছে। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে যে এলাকাগুলো এবার ডুবেেেছ সেগুলো নানা উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় সেই পথ দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হতে পারছে না। আমরা এগুলো নিয়ে সবার সাথে সমন্বয় করছি।
গণমাধ্যম কর্মীরা ওই সময় প্রজেক্ট সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তোলেন।  এতদিন এসব সমন্বয় করা হলো না কেন বারবার প্রশ্ন তোলেন। শামীম ওসমান সকলকে নিবৃত করে কিভাবে সামনে সমাধান করা যায় সেই তাগিদ দেন। সভায় সভাপতিত্ব করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাউন বিল্লাহ, ডিএনডি প্রজেক্ট অফিসার ক্যাপ্টেন ফরহাদ, নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  রহিমা আক্তার, সদর উপজেলা ইউএনও আরিফা জহুরা শিউলি ডিএনডি জলাবদ্ধতা সংশ্লিষ্টরা।
নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD