সেনা তৎপরতায় প্রধান সড়কে লোকসমাগম কমেছে,বেড়েছে পাড়া মহল্লায়

73

নারায়ণগঞ্জের খবর: বিনা কারণে বাইরে বের হওয়া বন্ধ করতে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করছে সশস্ত্র বাহিনীও। এতে মূল সড়কগুলোতে লোকসমাগম কয়েকদিনের তুলনায় কমে আসলেও।

শহর ও শহরের বাইরের অলিগলিতে আগের মতোই ভিড় ছিল। বেশ কিছু স্থানে চায়ের দোকানে ও মোড়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে কিশোর-যুবকসহ নানা বয়সীদের। বিভিন্ন বাজার ও মুদি দোকানেও ভিড় ছিল। কিছু দোকানের সামনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চিহ্ন দেয়া থাকলেও তা মানছেন না অনেকেই।  এদিন আরও দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

তবে এদিনও জরুরি কাজে নিয়োজিত পরিবহনের বাইরে ব্যক্তিগত কিছু গাড়ি রাস্তায় রয়েছে। তবে কয়েকদিনের তুলনায় অটোরিকশার সংখ্যা কম ছিল। এছাড়া মোড়ে মোড়ে ছিল রিকশাও।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঘরে থাকতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু অনেককেই বাইরে বের হতে দেখা যাওয়ায় কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বুধবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) বার্তায় জানানো হয়, সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে কাজ করবে। সরকার প্রদত্ত নির্দেশাবলি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সেনাবাহিনীর এ ঘোষণা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার প্রভাব পড়ে বিভিন্ন স্থানে। গত কয়েকদিনের তুলনায় মূল সড়কগুলোতে মানুষের সংখ্যা অনেক কম।

শহর ও শহরের বাইরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক করার পরপরই আবার বিনা প্রয়োজনে অনেকেই গলিতে-সড়কে নেমে আসেন। দোকানগুলোকে বন্ধ করার কথা বললেও কিছু সময় আবারও তা অমান্য করছেন তারা। অনেকেই আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে তুলে ধরছেন নানা অজুহাত।

মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা চেষ্টা করছেন মানুষকে বোঝাতে। তারা সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তবে এরপরও যদি কেউ অযথা বের হন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানুষে-মানুষে ‘সামাজিক দূরত্ব’ মানার প্রবণতা তেমন নেই। ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রায়ই একে অন্যের গা-ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচারও রক্ষা করছেন না অনেকে। কিছু কিছু দোকানের সামনে নির্দিষ্ট দূরত্বের চিহ্ন দেয়া থাকলেও অনেকেই তা মানছে না। বিশেষ করে কাঁচা বাজার ও মুদি দোকানগুলোতে এ চিত্র বেশি দেখা গেছে।

সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকা, জরুরি প্রয়োজনে বের হতে হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো মূল্যে এটি মানতে ও মানাতেই হবে। না মানলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।

এদিকে,বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মোলন কক্ষে করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জে দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর লেফট্যানেন্ট কর্ণেল আব্দুল মোত্তাকিম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে জনগণকে রক্ষা করতে কঠোর হতে হবে। আমরা কিন্তু এখন আর মোটিভেশনাল এপ্রোচে থাকবো না। আমাদেরকে একটু কঠোর হতে হবে। না হলে জনগণকে হয়তো ঠিক মতো বুঝাতে বা রক্ষা করতে পারবো না বা এই ভয়াবহতা মোকাবেলা করতে পারবো না।

নিউজটি শেয়ার করুন...