শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন
আবদুর রহিমঃ বিএনপির জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জেল,জুলুমের শিকার হয়েছে খন্দকার তৈমুর আলমের স্বজন এবং কর্মী সমর্থকেরা। দিনের পর পরিবার, স্বজনদের রেখে নির্বাসনেও ছিলেন । কেউ কেউ গ্রেফতার হয়ে মাসের পর মাস হাজতবাস করেছেন। কিন্তু দল কি তাঁদের ত্যাগের মূল্যায়ন করেছেন? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে।
সূত্র জানায়, নাসিক নির্বাচনের আগেই মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ওই কমিটি সভাপতি ছিলেন তৈমুর আলমের ছোট ভাই এবং নাসিকের জনপ্রিয় কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। নাসিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পদ হারিয়েছেন তৈমুর আলম নিজেই। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালও বহিষ্কার হয়। তিনিও বিএনপির একজন নিবেদিত নেতা হিসেবে সর্বমহলে সমাদৃত।
এছাড়াও বিভিন্ন কমিটি থেকে ছিটকে পরছে তৈমুরের ভাগ্নে রুশো, খোরশেদের বন্ধু রানা মুজিব সহ তাঁর অনুসারীরা। বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে খন্দকার পরিবার নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিকে চাঙা রেখেছেন। বিশেষ করে দল ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে তৈমুর আলম খন্দকার, মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, রানা মুজিব,রুশোরা দলের হয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আন্দোলন মানেই খন্দকার পরিবারের সদস্যদের সরব উপস্থিতি ছিল। দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করেছেন তাঁরা। একাধিক মামলার আসামী হয়ে একাধিক বার জেলে গিয়েছেন তৈমুর আলম, খোরশেদ, রুশো,রানা মুজিবরা। দিনের পর দিন পরিবার,স্বজনদের ছেড়ে নির্বাসনে ছিলেন তাঁরা। কিন্তু, দল তাঁদের কি মূল্যায়ন করলেন ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিএনপির মধ্যে।
নাসিক নির্বাচনের আগে রাজপথ কাঁপানো নাসিকের জনপ্রিয় কাউন্সিলর খোরশেদকে মহানগর যুবদল থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। সেই সাথে রানা মুজিব এবং রুশোও পদ হারান। অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে তৈমুর অনুসারী নেতাদেরও। নাসিক নির্বাচনে অংশ নেয়ার অপরাধে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, জেলা বিএনপির আহবায়ক পদ সহ দলের সাধারণ সদস্য পদ হারান বিএনপির মজলুম নেতা হিসেবে পরিচিত এড.তৈমুর আলম খন্দকার।
এদিকে, দলের জন্য এতো ত্যাগ স্বীকার করা তৈমুর আলম সহ তাঁর অনুসারীদের অবমূল্যায়ন করায় দলের তৃনমূল একটি ম্যাসেজ পেয়েছে। তা হচ্ছে দলের জন্য যতো ত্যাগই স্বীকার করা হোক না কেন সামান্য ভুলে তাঁর বড়ো খেসারত দিতে হয়। তবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের এমন রাজনৈতিক চর্চা পরিহার করা প্রয়োজন এমন দাবি বিশ্লেষক মহলের।
Leave a Reply