শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক নিউজ: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি মোকাবিলায় লকডাউনসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সফররত চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল।
ঢাকায় চীনের উপ-রাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ দলটির সঙ্গে ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়া ব্রিফিংয়ে ডা. শুমিং সিয়ানইউ ও ডা. হাইতাং লিউ বাংলাদেশে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।
বাংলাদেশ করোনা সংক্রমণের পিক টাইম (চূড়ান্ত পর্যায়) পার করছে কি-না জানতে চাইলে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমাদের মনে হয় না পিক টাইম এখনো এসেছে। এটা বলা কঠিন। এ ভাইরাস কতদিন থাকতে পারে সেটাই কেবল বিজ্ঞানীরা বলতে পারেন।
এক প্রশ্নের জবাবে হুয়ালং ইয়ান বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চীন বরাবরই বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে, আগামীতেও করবে। ভাইরাস মোকাবিলায় কার্যকর ভ্যাকসিনের গবেষণায় চীনের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। কার্যকর ভ্যাকসিন খুঁজে পাওয়ার পর যে দেশগুলোকে তা দেওয়া হবে, বন্ধুদেশ হিসাবে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ।
করোনা আক্রান্ত শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ জানিয়ে বিশেষজ্ঞ দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এখনো বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার পরিমাণ খুবই কম। দেশের সব বিভাগে ল্যাবরেটরিও নেই। সেজন্য অনেককে তাদের টেস্টের জন্য ঢাকায় নমুনা পাঠাতে হয়।
বেশি বেশি নমুনা পরীক্ষার ওপর জোর দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, দ্রুত পরীক্ষা, দ্রুত শনাক্তকরণ, দ্রুত আইসোলেশন এবং দ্রুত চিকিৎসা এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজন কেস থেকে সর্বস্তরে টেস্ট নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, করোনাভাইরাসের বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা খুবই কম। চিকিৎসকসহ চিকিৎসাকর্মীর সংখ্যাও খুবই কম। তবু স্বল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে তারা অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন।
তারা বলেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিকর খাবারও দিতে হবে। সেভাবে তাদের শরীর গড়ে তুলতে হবে।
চীন দূতাবাস সূত্র জানায়, বিশেষজ্ঞ দলটি তাদের বাংলাদেশ সফরের ভিত্তিতে সরকারের কাছে অন্তত চারটি প্রতিবেদন দেবে, যা আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় বাংলাদেশকে সহযোগিতার জন্য চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলটি গত ৮ জুন ঢাকায় আসে। ডা. লি ওয়েনশিউর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে চিকিৎসক, নার্সসহ সংক্রামক ব্যাধিনিরোধ বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।
বাংলাদেশ সফরকালে চীনের প্রতিনিধি দলটি করোনা আক্রান্ত রোগীদের পরিদর্শন করে এবং মনোনীত হাসপাতাল, কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ও পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কাজ করে। তারা করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে আলোচনা করেন এবং করোনা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার জন্য নির্দেশনা এবং প্রযুক্তিগত পরামর্শও দেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের। প্রতিনিধি দলটি সোমবার (২২ জুন) ঢাকা ছাড়বে।
Leave a Reply