শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

মেঘনায় ট্রলার ডুবিঃ দু’বোনসহ নিখোঁজ-৫

মোঃ সেলিম হোসেন
নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ মায়ের মরদেহ উদ্ধার হলেও এখনো খোঁজ মেলেনি দুই মেয়ের। শনিবার সকালে
মেঘনা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় নিখোঁজ সুমনা আক্তারের (২৮) মরদেহ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা রমজান বেগ এলাকা থেকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক মো. ওবায়দুল করিম জানান, সুমনা গজারিয়া উপজেলার দক্ষিণ ফুলদি এলাকার মফিজুলের স্ত্রী। দুর্ঘটনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তার দুই মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস সাফা (৩) ও জান্নাতুল মাওয়া (৭) মারোয়া আক্তার (৯), সাব্বির (৪০) ও তার ছেলে ইমাদ (৭)। সাব্বির ও ইমাদের বাড়ি রংপুরে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায় বলে জানায় পুলিশ। খবর ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের সদস্য নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে গজারিয়ায় রসুলপুরের ফুলদি ও দৌলতপুর এলাকা থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভ্রমণের উদ্দেশে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে নারায়ণগঞ্জের চরকিশোরগঞ্জে ঘুরতে আসে একই পরিবারের ৫ জনসহ ১১ জন। সারা দিন ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে উল্টো দিক থেকে আসা বালু বোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যায় ট্রলারটি। পরে স্থানীয়রা দূর থেকে দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক নারী ও শিশুসহ ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে ট্রলার চালক রফিকুল ইসলাম (৫০) ও মফিজুলসহ (৪০) সাঁতরে তীরে উঠে আসে আরও দুজন।
অন্যদিকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার হয়েছে, মফিজুল (৪০), টিনা (৯), তাহিয়া (১০), সাফা (৪), নাইমা (৪৫) ও ট্রলার চালক রফিকুল ইসলাম (৫৫)।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রসাশক আবু জাফর রিপন ও পুলিশ সুপার জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের বেলায় বাল্কহেড চলাচল করার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে শনিবার সকাল থেকে মেঘনায় উদ্ধার অভিযান শুরু করবে নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।
পুলিশ সুপার আসলাম খাঁন বলেন, অভিযুক্ত বাল্কহেডটি শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তবে বৈরী আবহাওয়ায় মেঘনায় প্রবল স্রোত থাকায় রাতে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান। ট্রলার ডুবির ঘটনায় ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে যারা নিখোঁজ রয়েছে তাদের তালিকা করা হয়েছে।
নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদ জানান, ৯৯৯ ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ ৬ জনকে উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ।
এদিকে শনিবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে নব পুলিশ কোড গার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্টরা। রাতে নদীতে না নামতে পারলেও সকাল থেকে নদীর তলদেশে তল্লাশি চালাচ্ছে ডুবরি দল। তবে নদীর তলদেশ গভীর ও যত্রতত্র ড্রেজিংয়ের কারণে বেগ পেতে হচ্ছে তল্লাশি কার্যক্রম।
নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD