শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৩:১১ অপরাহ্ন
আবদুর রহিমঃ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিনের। মামুন মাহমুদের উপর নাটকীয় হামলার পর যাকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছিলেন, সেই গিয়াসের কাঁধে অর্পণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির দায়িত্ব। আর এ কারণে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন তিনি। উভয় দলে নেতরা গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে চিন্তিত। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির একাধিক নেতা তৎপর হয়ে উঠেছে। বিএনপির মনোনয়ন পেতে একাধিক নেতা পর্দার আড়ালে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ থেকে সাংসদ শামীম ওসমান এবং শ্রমিক নেতা কাউছার আহমেদ পলাশ নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন।
যদিও গুঞ্জন চলছে শামীম ওসমান এবারের নির্বাচনে অংশ নিবেন না। তবে পরিবার থেকে কেউ মনোনয়ন চাইবেন। কিন্তু তারপরও গিয়াস উদ্দিনকে সবাই সমীহ করতে শুরু করেছেন। রাজনীতির মাঠের পাকা খেলোয়াড় হিসেবে গিয়াসের পরিচিতি বহুদিনের। তার-ই প্রতিফলন দেখালেন জেলা বিএনপির আহবায়ক হয়ে। অধ্যাপক মামুন মাহমুদের উপর নাটকীয় হামলার পর গিয়াস উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি করেছি মামুন মাহমুদের অনুগামীরা। রাজনীতির মাঠে গুঞ্জন রয়েছে মামুন মাহমুদ আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সাংসদের প্রেসক্রিপশনে চলেন। গিয়াসকে বহিষ্কারের দাবি সেই প্রেসক্রিপশনেরই অংশ এমন দাবি গিয়াস পন্থী নেতাকর্মীদের।
বিএনপির রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপিতে যখন নেতৃত্বের সংকট, দলে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে, তখন এই নেতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন একজন প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ পরিচিত। শুধু দলেই নয়, জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারাও বিএনপির এই নেতাকে বেশ সমীহ করেন। রাজনীতিতে অত্যন্ত দক্ষ হওয়ায় বার বার আলোচনায় উঠে আসেন গিয়াস উদ্দিন। তাঁর প্রমান দিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক হয়ে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি চমক দেখাতে পারেন। গুঞ্জন চলছে আওয়ামীলীগের টিকেটে তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার। এছাড়া বর্তমানে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব সংকট দেখা দেয়ায় বিএনপি হাই কমান্ড গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। সে লক্ষ্যৈই তাকে জেলা বিএনপির কান্ডারী করেছেন দলের হাইকমান্ড। জেলা বিএনপি থেকে এড. তৈমুর আলম খন্দকারকে আহবায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পর থেকে জেলা বিএনপিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। যোগ্য নেতৃত্বের সংকট থেকেই মূলতঃ বিএনপির শৃঙ্খলা ভেঙে পরেছে এমন দাবি বিএনপির তৃনমূলের নেতাকর্মীদের।এড.তৈমুর আলম খন্দকারের পর যরা দলের নেতৃত্বে আসছে এসব নেতারা নানা বিতর্কীত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেছে। বর্তমান নেতৃত্বকে দলের নেতাকর্মীদের বিরাট একটি অংশ মেনে নিতে পারছেন না। ফলে দিনে দিনে জেলা বিএনপিতে বিশৃঙ্খলা বেড়েই চলছে। এরফলে দলের প্রবীণ নেতাদের সাথে নবীন নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। দলের ভেতরে নানামুখী দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।কোন্দল, উপকোন্দলের কারণে নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত ভাবে রাজনীতি করছেন। অনেকে বিতর্ক এড়াতে রাজনীতি থেকে নিজেকে ঘুটিয়ে নিয়েছেন। দলের ভেতরের এমন অবস্থার কথা দলে নীতিনির্ধারণী ফোরাম অবগত হওয়ার পর জেলা বিএনপির নতুন কান্ডারী হিসেবে গিয়াসকে বেছে নিয়েছেন।
Leave a Reply