শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন
আবদুর রহিমঃ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পরেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে নতুন করে এই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দলের শীর্ষ নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড করলেও নাসিক নির্বাচনের পর স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেলেও সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে নাসিক মেয়র আইভীর বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
সূত্রমতে, আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের বিরোধ আর কতোদিন থাকবে? এমন প্রশ্ন দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। আওয়ামী লীগের জন্মজেলা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ। এই জেলা ভাষা আন্দোলন কিংবা স্বাধীকার সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। অথচ এই নগরীতে আওয়ামীলীগের বিরোধ প্রায় পাঁচ দশক ধরে বিদ্যামান রয়েছে। কিন্তু, শাসক দলের বিরোধ মিটাতে কেউ উদ্যোগ নিচ্ছেনা। দিনে দিনে এই বিরোধের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিরোধ নিয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে প্রায় সময় বাকযুদ্ধ হতে দেখা যায়। এই বিরোধ আদালতেও গড়িয়েছে। একই দলের একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জল ঘোলা করতে দেখে গেছে। সর্বশেষ নাসিক নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই মেরু আলোচনায় আসে। নির্বাচনের সময় দলের একাধিক শীর্ষ নেতা নারায়ণগঞ্জে অবস্থান নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। কিন্তু বিরোধ মিটাতে কোন উদ্যাগ নিতে দেখা যায়নি। নাসিক নির্বাচনের পর সাংসদ শামীম ওসমান চুপ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নাসিক মেয়র আইভী প্রায় সময়ই নিজ দলের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছেন। এ নিয়ে তৃনমূলেও ক্ষভ ছড়িয়ে পরেছে।
কর্মীদের অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতাদের বিরোধ কর্মীদের বিপাকে ফেলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের বছর আওয়ামী লীগের এই বিরোধ মিটানো না গেলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পরবে। দলের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের বিভাজন দীর্ঘদিনের হলেও, এই বিরোধ মিটনোর কোন উদ্যোগ নেয়নি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ফলে দশকের পর দশক ধরে এই বিরোধ চলমান রয়েছে। স্বাধীনতার পর এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক একেএম সামসুজ্জোহা এবং আলী আহমদ চুকার মধ্যকার বিরোধ থেকে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড করে আসছেন। যা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে এই বিরোধ বিদ্যমান রয়েছে। এই বিরোধ হামলা, মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রায় সময় উত্তাপ,উত্তেজনা ছড়িয়ে পরেছে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে নাসিক মেয়র আইভী ওসমান পরিবারকে নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করা নিয়ে দলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরেছে। এ নিয়ে দলের তৃনমূলেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। শীর্ষ নেতাদের বিরোধে জড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।
Leave a Reply