নিজস্ব প্রতিবেদক: জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া মশিউর রহমান রনি এবার হিরো থেকে ভিলেনে রূপ নিতে শুরু করেছে। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব হওয়ার পর থেকে রনি নিজেকে হনু ভাবতে শুরু করেছে। সাংসদ শামীম ওসমান,ছাত্রলীগ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা রনি নিজ দলের কাছে বিষফোঁড়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ধামবিকতা আর অহমিকায় স্থানীয় কিংবা কেন্দ্রীয় নেতাদের এখন আর তোয়াক্কা করছে না এমন অভিযোগ খোদ বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের।
গত সপ্তাহে মহানগর বিএনপির পদযাত্রা অনুষ্ঠানে অনেকটা গায়ে পরে পায়ে পাড়া দিয়ে কর্মসূচিতে সংঘর্ষে জড়িয়ে নিজেই লাঞ্ছিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে দৌড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দৌড়ের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। দৌড়ে পালানোর দৃশ্য দেখে অনেকেই রনিকে দৌড় রনি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
গত ১৯ মে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে রিজভীর পাশে দাঁড়ানো নিয়ে বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও আড়াইহাজার থানা বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমনের লোকজনদের মধ্যে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। তখন সুমনের পক্ষে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির লোকজন মিলে আজাদের লোকজনদের উপর চড়াও হলে শুরু হয় ফের মারামারি। প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভী মাইক হাতে নিয়ে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তারা শান্ত হন।
পদযাত্রা শেষে ওই মারামারির ঘটনার রেশ ধরে শহরের মিশনপাড়া এলাকার বৈশাখী হোটেলের সামনে সাখাওয়াত ও টিপুর সামনেই মশিউর রহমান রনি তার অনুসারীদের নিয়ে আজাদের অনুসারি রফিকসহ অন্যদেরকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। সেই সাথে দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, মশিউর রহমান রনি এরআগেও বিএনপির কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এড.তৈমুর আলম খন্দকার আহবায়ক থাকাকালীন সময়ে তার বাড়ীর সামনে ছাত্রদল নেতা সাগর সিদ্দিকীকে তুলে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। মনিরুল ইসলাম রবি ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হলে দলীয় কর্মসূচিতে একটি পক্ষকে কোনঠাসা করে রাখার অভিযোগ ওঠে রনি বিরুদ্ধে। অধ্যাপক মামুন এবং জাহিদ হাসান রোজেলের সঙ্গে মিলে সভামঞ্চ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে এই রনি। এর ফলে বিএনপির বড় একটি অংশ দলীয় কর্মকান্ড থেকে নিজেদের ঘুটিয়া নেয় এমনটাই জানিয়েছে বিএনপি একাধিক নেতা। বিএনপির রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানায়, রনি যদি নিজেকে সংশোধন না করে আগামী দিনগুলোতে বিএনপির রাজনীতি করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে যাবে।
Leave a Reply