শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি-প্রধানমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের খবর ডেস্ক:  করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ভালো ব্যবস্থাপনা করতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। তারপরও অনেকে নানা রকম কথা বলছেন। এটা নেই, সেটা নেই। কেন কিছুর আওয়াজ নেই? আমাদের কোনও কিছুর কোনও অভাব নেই। সব ব্যবস্থা কিন্তু নেওয়া হয়েছে। যারা এসব কথা বলেন তারা নিজেরা কিছু জানেন না। তাদের গলার স্বর অনেক পরে দেখেছি। আমরা তার অনেক আগেই ব্যবস্থা নিয়েছি। না হলে এই পর্যন্ত আমরা… অনেক ‍উন্নত দেশ যা করতে পারেনি, আল্লাহর রহমতে আমরা কিন্তু তা করতে পেরেছি। আমরা এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। এটা হয়তো আরও কিছুদিন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।’

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।

দেশের জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ এলে তা সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। সেজন্য সবাইকে সেইভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এতে ভীত হওয়ার কিছু নেই। মনের জোর থাকতে হবে। অনেক দুর্যোগ আমরা মোকাবিলা করেছি। ইনশাল্লাহ এই দুর্যোগ মোকাবিলা করে যাচ্ছি এবং করে যাবো। আমরা বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। এখানেও আমরা বিজয় অর্জন করবো ইনশাল্লাহ।

করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অনেক উন্নত দেশে দেখছি অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। রোগ সংক্রমিত হচ্ছে। সব মেরুকরণ ভেঙে যাচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে ভূখণ্ডের দিক থেকে আমরা ছোট। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশাল। এ অবস্থার মধ্যে থেকেও আমরা যথেষ্ট সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। এজন্য যারা কাজ করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সবাই নিজেদের জায়গায় থেকে যার যার দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই এটা আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

ক্রান্তিকালে এই ভিডিও কনফারেন্স করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ যে পরিস্থিতিটা সৃষ্টি হয়েছে সেটা কেবল বাংলাদেশে নয়, সমগ্র পৃথিবী জুড়ে এই সমস্যাটা হয়েছে। এখানে ধনী-দরিদ্র, দুর্বল-শক্তিশালী, উন্নত-অনুন্নত কেউই বাদ যায়নি। সবাই এই পরিস্থিতির শিকার। কেউই বাদ যায়নি। এরকম পরিস্থিতি বোধহয় আমরা জাতীয় জীবনে আর কখনও দেখিনি। অতীতের ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে শত বছরে একবার করে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এরকম একটা ধাক্কা আসে।’

জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জীবন পড়ে থাকবে না, চলবে। সেদিকে লক্ষ রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। তবে, এই সুরক্ষায় রাখতে গিয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়াটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। করোনা থেকে জনগণকে সুরক্ষার জন্য জনকল্যাণে নির্দেশনা পালন করতে হবে। সবাইকে যার যার জায়গায় থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ছুটির কারণে দিনমজুর, দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক শ্রেণি, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবিকার পথটা বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়েছি। ১০ টাকা কেজি চাল, ভিজিডি, ভিজিএফ চালু আছে। যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের বলবো এই চলমান নিরাপত্তা প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি দরিদ্র শ্রেণি, দিনমজুর যারা এখন বেকার তাদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে। যেন পরিবার নিয়ে তারা অভুক্ত না থাকে। এদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সাহায্য করতে গিয়ে কোনও লোকসমাগম করা যাবে না। এক্ষেত্রে ওয়ার্ড পর্যায় গিয়ে জনগণকে সচেতন করে দরকার হলে বাড়ির কাছে পাড়া মহল্লায় গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা দিতে হবে। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনও জায়গায় বেশি লোকসমাগম করা যাবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ বছর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর বছর। জন্মশতবার্ষিকী পালনে আমরা সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপও নেই। কিন্তু চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর আমরা জনগণের নিরাপত্তা দেওয়াকে বড় কর্তব্য বলে মনে করেছি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের সম্পৃক্ত করে যে স্বাধীনতা জাতির পিতা এনে দিয়ে গেছেন, সেই জনগণের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে আমাদের বহু কাঙ্ক্ষিত মুজিববর্ষের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এর পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন দিবসের কর্মসূচি বাতিল করেছি। মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি লক্ষ রেখেই আমরা এটা করেছি।’

করোনা মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যখন চীনে করোনাভাইরাস দেখা দেয় তখনই সেখান থেকে আমাদের কিছু ছাত্রকে ফিরিয়ে আনি। তাদের মাধ্যমে আমাদের দেশে যাতে কারো সংক্রমিত না হতে পারে, সেজন্য কোয়ারেন্টিনে রাখা হলো। সেইসঙ্গে আমরা ভিসা শিডিউল বন্ধ করে দেই যাতে কোনও বিদেশি না আসতে পারে। এর মধ্যে কিছু কিছু চলেও এসেছিল। যাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের সন্দেহভাজন ছিল তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, নার্স, চিকিৎসক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। আমরা এক চোটে কিছু করিনি। পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

২০ জন আক্রান্ত ও ৫ জন নিহতের পর সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করলাম। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের যাতে কষ্ট না হয় তার জন্য নিত্যপণ্য, পণ্য পরিবহন, ওষুধসহ জরুরি বিষয়গুলো চালু রাখার ব্যবস্থা নিলাম। আমরা সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সবকিছু সীমিত আকারে চালু রাখার ব্যবস্থা করেছি। যেসব নির্দেশনা দিয়েছি, সবাইকে সেগুলো পালন করতে হবে। যাতে করে করোনা সংক্রমিত না হয়।’

নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD