কুতুবপুরে কবরস্থান নিয়ে রাজনীতি-১

36

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার শাহীমহল্লার শেষ আবাস্থল কবরস্থানের উপর মার্কেট নির্মাণে এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুভূতির সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন কুতুবপুরবাসী। তবে এলাকার সাধারন মানুষের মতে, কবরস্থান নিয়ে যা হচ্ছে এটা স্থানীয় একটি মহলের রাজনীতির অংশ ছাড়া আর কিছু নয়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার সময় পাগলা শাহীমহল্লা কবরস্থানের সামনে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এই মানববন্ধন করা হয়। কুতুবপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড সদস্য হাজী রোকন উদ্দিন রোকনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, আমরা কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দা।

এ সময় কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আঃ খালেক মুন্সি বলেন, এই কবরের উপর কোন
মার্কেট হবে না। কবরের উপর মার্কেট নির্মান করা জায়েজ নাই। কবরস্থান কমিটির সভাপতি আলাউদ্দিন
মেম্বারের কথায় কবরস্থানের উপর কোন ভাবেই মার্কেট করতে দেওয়া যাবে না। এলাকাবাসীর দাবি কবরের উপর মার্কেট করতে দেয়া হবেনা বন্ধ করতে হবে,না হলে কঠোর প্রতিবাদ করা হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নাম দিয়ে কিছু নব্য হাইব্রীড আওয়ামী লীগার আওয়ামীগের ইমেজ ক্ষুন্ন করতেই মসজিদ,কবরস্থান নিয়ে ঘিন্ন খেলায় মেতে উঠেছে। আমরা কাউকে এমন খেলা খেলতে দিবো না।

সম্প্রতি ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত একমাত্র কবরস্থানের কমিটির এই মর্মে সিদ্ধান্ত নেয় যে, কবরস্থানের ১০ কাঠা জমি জুড়ে মার্কেট নির্মাণ করবেন। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে মোটা অংকের অগ্রিম টাকাও গ্রহণ করে নিয়েছেন। যা একটা এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুভূতির সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত। পৃথিবীর শেষ আবাস্থল কবরস্থানের জায়গা বৃদ্ধির কথা বিবেচনা না করে শুধুমাত্র নিজেদের অর্থলোলুপ মনোভাব নিয়ে অযৌক্তিকভাবে মার্কেট নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের সব অঞ্চলে কবরস্থানের জায়গা ছোট করে মার্কেট মার্কেট নির্মাণ করার হেয় মানসিকতা দেখায়। কবরস্থান কমিটি সবসময়ই নিজেদের আর্থিক সুবিধা গ্রহনের মানসিকতা পারস্পারিক সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, শাহীমহল্লা কবরস্থানে মার্কেট নির্মাণ প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা আব্দুল খালেক মুন্সী, মোঃ আঃ হক, আলমগীর ভূইয়া, হাজী আবুল কালাম, আহ্বায়ক হাজ্বী মোঃ মীর হোসেন মীরু, কুতুবপুর ইউপি মহিলা মেম্বার অনামিকা হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নিজাম উদ্দিন মিন্টু, হাজ্বী দিদার আহমেদ, মোঃ শাহীন মোল্লা, এইচএম. মেহেদী, সজীব কাজী, আতিকুল ইসলাম খোকন, সদস্য সচিব এম. এ জাহের মোল্লা, সদস্য মণ্ডলী , সাকিল মৃধা, মোঃ রবিউল, ফেরদৌস রাজু, মোঃ সেলিম খান, বাবুল চৌধুরী, ডা. মামুন, রাজিব (ব্যাংকার), আসিফ, ডা. নাহিদ, মনির হোসেন খোকন, আক্তারুজ্জামান লিমন, ইমরান হোসেন হিমু, ইঞ্জিঃ সাঈদ রেজা খান, ফয়সাল খান স্বপন, মোঃ দ্বীন ইসলাম, ফজলে রাব্বী, মারুফ হাসান সাজিদ, জসীম দিদার, আল আমিন, শাকিল বায়েজীদ, আর এইচ খান জেনী, শরীফ আকন, মাসুদ মাহী, ওমর ফারুক, রাকিব রকি, মামুন মিয়া, ইমরান হোসেন ইদরান, মাহবুব, আরিফ, শরীফ, শাহাদাৎ হোসেন অর্ণব, শেখ জুয়েল, আশিকুল্লাহ্ রাশেদ, দিদার হোসেন, আলমগীর হোসেন, হানিফ (আমতলা), রেজাউল করিম গুলজার, আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজু ও নুরু শাকিল প্রমুখ।

কবরস্থানে মার্কেট নির্মাণের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর দাবির মধ্যে রয়েছে, কবরস্থান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী সৎ ব্যক্তিদের কবরস্থান কমিটিতে দায়িত্ব প্রদান। অডিট করে বিগত বছরগুলোর আয় ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব তৈরী করে জনগণের নিকট উপস্থাপন করা। মসজিদের নিচতলায় জানাযার জন্য সম্পূর্ণ জায়গা খালি রাখা। আমাদের ইসলামিক ধর্মীয় মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানের জন্যও নিচতলা সম্পূর্ণ খালি রাখা।

এরআগে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলাউদ্দিন হাওলাদার ও সাধারন সম্পাদক হুমায়ূন কবীর বলেন, আমরা আদালতের রায় এবং তিনজন বিজ্ঞ মুফতী সাহেবের পরামর্শ নিয়ে কবরস্থানের পাশে মসজিদ সম্প্রসারন করে মাকের্টসহ নতুন করে মসজিদ নির্মাণ শুরু করেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন...