শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

ফতুল্লায় নব্য আওয়ামী লীগারদের কাছে তৃনমূলের নেতারা জিম্মী

নারায়ণগঞ্জের খবর ডটকমঃ ফতুল্লায় হাইব্রীড আওয়ামী লীগারদের তৎপরতায় অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পরেছে আওয়ামী লীগের তৃনমূল থেকে উঠে আসা নেতাকর্মীরা। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যারা বিএনপি এবং জামাত থেকে আওয়ামী লীগের জেলা ও থানা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন ঐ সমস্ত নব্য আওয়ামী লীগাররাই এখন নানা ধরনের বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন। এসব নব্য আওয়ামী লীগাররা এখন দলের পুরাতন নেতাকর্মীদের গলার কাটায় পরিনত হয়েছে বলে মনে করছেন দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, নির্বাচনের আগে যারা আাওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন বর্তমানে তারা আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করাসহ নানা বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে এসব নব্য আওয়ামী লীগাররা পুরাতনদের কোনঠাসা করতে নানা অপ-তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায় থেকে উঠে আসা একাধিন নেতা জানান, নির্বাচনের আগে যারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে মূলত তারাই বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পেশী শক্তিসহ নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। যার পুরো দায়ভার এসে পরছে আওয়ামী লীগের উপর।

আওয়ামী লীগের তৃনমূলের দাবি, এক সময়ে সাংসদ শামীম ওসমানের অন্যতম প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত ফতুল্লার আলাউদ্দিন হাজীর দুই পুত্র আক্তার-সুমন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। এরপর থেকে নতুন করে নিজস্ব বাহিনী নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠে আওয়ামী লীগের তৃনমূল থেকে উঠে আসা নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করতে। অভিযোগ রয়েছে আলাউদ্দিন হাজীর পুত্র আক্তার-সুমন এবং পালিত পুত্র রতন কাঠেরপুল, রেললাইন বটতলা এলাকার ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

অন্যদিকে, ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পরে। নির্বাচনের পর দাপা আদর্শ স্কুলের শিক্ষক কতৃক পিয়নকে বলাৎকারের ঘটনা ধামা চাপা দিতে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন তিনি। শিক্ষকের অপকর্ম ঢাকতে অভিযুক্ত শিক্ষককে দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সানাউল্লাহর ভাই দাপা আদর্শ স্কুলের বিপুল ভোটে নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য সিরাজুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করায়। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই কাঠেরপুল এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন, যুবলীগ নেতা আজমত আলী ও তাদের সমর্থকদেও সাথে বিরোধে জড়িয়ে পরে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গিয়াস উদ্দিন ও আজমত আলীসহ তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। গিয়াস-আজমতের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পেছনে ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশংয়ের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গিয়াস-আজমতের মামলার বাদি আব্দুর রাজ্জাক বিএনপি নেতা এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের দাবি, গোলাম মোস্তফা এবং তার বিয়াই কুতুবপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপি নেতা তৈয়ব আলী প্রকাশ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করতে তৎপরতা শুরু করেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, গোলাম মোস্তফা এবং বিএনপি নেতা তৈয়ব হোসেন দু’জনই রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের পুত্র রেজোওয়ান আহমেদ তৌফিকের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছে। এ ব্যাপারে গোলাম মোস্তফা এবং তৈয়ব হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD