বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ঝগড়া মিমাংসা করতে সালিশ বৈঠকে বসে সংঘর্ষে জড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুইপক্ষ। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের অন্তত দশজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম।
তিনি বলেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম ও জেলা স্বেচ্ছঅসেবক দলের সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খাঁ তাদের অনুসারী কর্মীদের নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এ ঘটনায় অন্তত একজনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েছেন। তবে তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধারের কথাও জানান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে সড়কে প্রাইভেট কার ও রিকশাকে ‘সাইড দেওয়া’কে কেন্দ্র করে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে রফিকুলের অনুসারী আমিন হোসেনের তর্কের পর ঝগড়া হয়। এ নিয়ে থানায় একটি অভিযোগও দিয়েছেন বিল্লাল হোসেন। এই ঝগড়ার মিমাংসার জন্য সোমবার বরুনা এলাকায় সালিশ বসানো হয়।
ওই সালিশে বিল্লাল হোসেন খাঁ ও রফিকুল ইসলাম দু’জনই উপস্থিত ছিলেন। সালিশের এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার সময় উভয়পক্ষ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান এবং তখন আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলিও চলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, সালিশে তাদের উপর শুরুতে হামলা চালানো হয়।
“সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে ঝগড়া হয়, সেটাকে মিমাংসা করতে গেলে ঘটনাকে বড় করে তোলেন বিল্লাল হোসেন। তারা পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়,” বলেন তিনি।
সংঘর্ষে রফিকুল তার অনুসারী সবুজ, শাহ আলম, মাহবুবসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ করেন অপর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন খাঁ। তার দাবি, রফিকুলের নির্দেশে তার লোকজন হামলা চালিয়েছে। এ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাও বলেন, তার অন্তত ৫ জন সমর্থক আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর সেখানে যান উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ূন। তিনি বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জ্যেষ্ঠ নেতাদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তারা পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।”
তবে, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে, আপাতত ওই এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
Leave a Reply