নারায়ণগঞ্জের খবরঃ
ফতুল্লার তুষারধারা, গিরিধারা, শহীদ নগর, আদর্শ নগর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেন্টু চেয়ারম্যানের ক্যাডার গাজী মুজাহিদ অরুফে ফেন্সি মুজাহিদকে নিয়ে কুতুবপুরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে ফেন্সি মুজাহিদকে আওয়ামীলীগ থেকেও বহিষ্কার করেছে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে ৭ সেপ্টেম্বর জরুরী সভা ডেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ফেন্সি মুজাহিদ মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ইউনিট আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। মুজাহিদ (২৪) ফতুল্লা মডেল থানার কুতুবপর ইউনিয়নের শহীদ নগর এলাকার গাজী মোল্লার পুত্র।
গত ২ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বন্দর থানার মদনগঞ্জ এলাকা থেকে ৬০ বোতল ফেনসিডিল ও ১ শত পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেলসহ ফেন্সি মুজাহিদ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাকে বন্দর থানার মদনগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। আটক করা হয় একটি মোটরসাইকেল। উদ্ধার করা হয় ৬০ বোতল ফেনসিডিল ও ১’ শ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট।
সম্প্রতি কুতুবপুরের শহীদ নগর এলাকায় চাঁদার দাবীতে রিপন দাস ও তাঁর স্ত্রীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত হত্যার চেষ্টা করে মুজাহিদ বাহিনী। বিশাল বাহিনী নিয়ে হামলা চালানোর একটি ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ভাইরালও হয়। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ মুজাহিদকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
গত ২১ আগস্ট রাতে চাঁদার দাবীতে কুতুবপুরের দৌলতপুরে ব্যবসায়ী ইব্রাহীমকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে মোজাহিদ বাহিনী। এ ঘটনায় মামলা হলেও রহস্যজনক কারনে মুজাহিদকে গ্রেফতার করেনি ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গাজী মুজাহিদ মোল্লা কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর সরাসরি শেল্টারে এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এর সাথে জড়িত রয়েছে, মুজাহিদ গ্যাংয়ের মূল হোতা কিশোর গ্যাং লিডার জামাত সমর্থক মিজান,আদর,রায়হান। চারজনের নেতৃত্বে সাইফুল, জাহিদ,আদর,মৃদুল,লিটন,শাহীন,সাগর,রাতুল, আকাশ,সজিব,ইমন,তানভীর,নয়ন, সম্রাট, অয়ন সহ শতাধিক উঠতি বয়সের সন্ত্রাসী কুতুবপুরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুজাহিদ, জামাতি মিজান,রায়হান, আদর, সাইফুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিশোর এবং উঠতি বয়সের উশৃংখল যুবকদের নিয়ে বিশাল একটি বাহিনী গড়ে তুলে নানা ধরনের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। ধুরন্ধর গাজী মুজাহিদ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে কখনো প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদের সাথে, কখন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে কিংবা জনপ্রতিনিধিদের সাথে ফটোসেশান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে থাকেন। এই ছবিকে পুঁজি করেই নিজেকে বিশাল বাহিনী প্রধান হিসেবে আত্ম প্রকাশ ঘটিয়ে এলাকায় মাদক বিক্রি,চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছে। এই বাহিনীর কাছে তুষারধারা,গিরিধারা,শহীদ নগর, আর্দশ নগর,নুরবাগ এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পরেছে। মুজাহিদ বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপ দাবী করেছে ভুক্তভোগী মহল।
Leave a Reply