আমরা কেউ-ই ভালো নেই-তাহসান

27

গায়ক, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, অভিনেতা এবং মডেল হিসেবেও তাহসানের নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। করোনা সংকটের শুরু থেকেই ঘরবন্দি তিনি। কেমন কাটলো এবার ঈদ? প্রশ্ন করতেই বললেন, পুরো রমজান মাস সংযমে থেকেছি। ঈদের দিনটিতেও তাই। আল্লাহতাআলা আমাদের একটি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এটা মেনে নিতে হবে। যদিও এতে এক ধরনের কষ্ট ও আফসোস ছিলো, থাকবে; তবু আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে।

তাহসান প্রতিবছর মেয়েকে নিয়ে শপিং করতে যান। এবার? জিজ্ঞেস করতেই বললেন, এবারই প্রথম কোনো ঈদে মেয়ের সঙ্গে শপিংয়ে যাইনি। বাবার সঙ্গে ঈদের জামাতে নামাজ পড়তেও যাইনি। কোনো আত্মীয়র বাসায় যাওয়া, বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দেওয়া হলো না। এটা এক ধরনের আক্ষেপের বিষয়! পাশাপাশি আমাদের বুঝতে হবে, সাময়িক আনন্দের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনাটা ঠিক হবে না। আমরা ভালোবাসার মানুষকে মিস করব, এই মিস করাটাই হয়তো এবারের ঈদের অর্জন।

ঈদুল ফিতরে অসহায় মানুষদের প্রসঙ্গ টেনে তাহসান বলেন, আমাদের জাকাত ব্যবস্থা অসাধারণ একটি পদ্ধতি। আমি চেষ্টা করি প্রতিবছর আমার আয়ের হিসাব করে জাকাত দেওয়ার। এবার জাকাতের টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে হয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো ‘মিউজিক এগেইনস্ট হাঙ্গার’ নামে অনলাইন কনসার্ট করেছি। আমেরিকার একটি এনজিও, বাংলাদেশের একটি এনজিও ও ইউনিলিভার এই কনসার্টের আয়োজন করেছে। আমরা বাসা থেকে গান পরিবেশন করেছি। অকশন পৃথিবীতে পরিচিত একটি মাধ্যম। যেটা এবার আমরা বাংলাদেশে করলাম। এখন লাইভ ফান্ড রাইজিং কনসার্টও হচ্ছে। লাইভ চলাকালীন দান করার জন্য অ্যাকাউন্ট নম্বরটি স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয়। তারপর যে যার মতো ওই অ্যাকাউন্ট নম্বরে ডোনেট করেন। এখান থেকে সংগৃহীত টাকাটা ঈদের পরপরই অসহায় মানুষদের জন্য ব্যয় করব।

করোনা সংকটে ব্যক্তিগত উপলদ্ধির অনেক পরিবর্তন হয়েছে জানিয়ে তাহসান বলেন, মানুষ অনেকটা সময় যখন একা থাকে, তখন নিজের সঙ্গে নিজের চিন্তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে পারে। এই সময়ে বাসায় বসে অনেক ধরনের কাজ করেছি। গান লেখা, সুর করা, গান গাওয়া ইত্যাদি। ক্যারিয়ারে মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। এখন পাওয়ার চিন্তার চেয়ে দেওয়ার চিন্তাটা বেশি করতে হবে। আমি অনেক বছর শিক্ষকতা করেছি। লেখালেখিও করি। এর মধ্যেও অনেক প্রকাশক ফোন করে বলেছেন, আপনি বই লেখেন না কেন? আমি সবসময় বলেছি, আমি সেই জায়গায় পৌঁছাইনি। তবে এখন মনে হচ্ছে, আমার যে চিন্তা-চেতনার জায়গা আছে, তা মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন। সেখান থেকেই আমার প্রথম বইয়ের কাজ শুরু করেছি। আমার মনে হয় না আমি অনেক বই লিখবো। তবে প্রত্যেকটা বইয়ের পেছনে এমন শ্রম দিতে চাই, যাতে বইটি দীর্ঘ সময় মানুষের মনে বেঁচে থাকে। লকডাউনের মধ্যে ‘আমি অদৃশ্য পরজীবী’ নামে একটি গান লিখেছি। গানটির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করলে অনেকে ভেতরের অর্থটা বুঝবেন। আবার অনেকে বুঝবেন না। সেই বিশ্লেষণটা আমি লিখতে চাই। এটি হবে প্রবন্ধ সংকলন।

করোনা পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? তাহসান বলেন, সহানুভূতি, সহমর্মিতার জায়গায় মানুষ আরো বেশি যত্নশীল হবেন এমন একটি দেশ দেখতে চাই। মেরুকরণ কম দেখতে চাই। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আমাদের দেশে অনেক বেশি মেরুকরণ, দলাদলি রয়েছে। করোনার কারণে দেশে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য সবারই পরস্পরের পাশে দাঁড়াতে হবে। পরস্পরকে দোষারোপ করে আমরা কিছুই পাবো না। মনে রাখতে হবে, আমরা কেউ-ই ভালো নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন...