মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

ফতুল্লায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে যুবলীগ ক্যাডার গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের খবরঃ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় পল্লী চিকিৎসক মিলন হোসেনকে আটকের পর ব্ল্যাকমেইলিং করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় বøাকমেইলিং চক্রের অন্যতম সদস্য ইউসুফকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। সে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেলের সক্রিয় কর্মী বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরস্থ রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের সদস্য ইউসুফকে আটক করা হয়।

আটককৃত ইউসুফ ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরস্থ রেলস্টেশন এলাকার নুরু ঘটকের ছেলে। সে নিজেকে যুবলীগ নেতার পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়ায় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

আর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার ফতুল্লার মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকার মৃত আজহার আলীর ছেলে মিলন হোসেন। সে মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকায় বসবাস করে একজন পল্লী চিকিৎসক হয়ে একটি ঔষধের ফার্মেসী দিয়ে ব্যবসা করে আসছে।

অভিযোগ সূত্র ও পল্লী চিকিৎসক মিলন হোসেন জানান, গত ১২ মে দুপুরে মিলনের ঔষধের দোকানের জন্য ঔষধ ক্রয় করতে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ফতুল্লা রেলস্টেশনে যায়। ট্রেন আসার অপেক্ষা মিলন দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় ৫/৬ লোক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রেলস্টেশনের প্লাটফর্মের নিয়ে যায়। তখন তারা কিছু বলার আগেই মিলনকে মারধর করতে থাকে এবং তার পকেটে থাকা ঔষধ কেনার ১০ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের আংটি নিয়ে যায়। এর পর নারীদের ফাসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে মিলন তাদের ভয়ে বিকাশের মাধ্যমে তাহার আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা আনিয়া দেয়। পরে তাকে ছেড়ে দেয়। তাদের হাত রক্ষা পেয়ে খোজ খবর নিয়ে জানতে পারে তারা ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের সদস্য। তারা ফতুল্লার রেলস্টেশনসহ আশে পাশের এলাকায় নারী দিয়েসহ বিভিন্ন পন্থা অবলম্ভন করে ব্ল্যাকমেইলিং করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় মিলন হোসেন বাদী হয়ে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার শাহজামালের ছেলে রুবেল, নুরু ঘটকের ছেলে ইউসুফ, শাহার ছেলে সানী, শাহজালালের ছেলে জুয়েলকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পর তার আত্মীয় স্বজন নিয়ে ঘটনাস্থল যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারে ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকাসহ আশে পাশের এলাকায় একটি ব্ল্যাকমেইলিং চক্র রয়েছে। সেই চক্রটি ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলীর সাথে রাজনীতি করে। তারা নিজেদের যুবলীগ নেতার পরিচয় দিয়ে এলাকায় এসব অপকর্ম করে আসছে। তারা মীর সোহেলের লোক হওয়ার সুবাধে ভয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করে না। আর মিলনকে দিনে দুপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আটক করার পরও কেউ ভয়ে কিছু বলার সাহস করেনি। তারা মীর সোহেলের শেল্টার এসব অপকর্ম করছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হাসানুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একজন পল্লী চিকিৎসককে আটকে ব্ল্যাকমেইলিং করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আনিয়ে মারধর করার ঘটনায় ইউসুফ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অন্য ব্ল্যাকমেইলারদের আটকের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, ফতুল্লা রেল স্টেশন এলাকার ফুটপাত দখল করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অফিসে বসে যুবলীগ,স্বেচ্ছা সেবক লীগের নেতারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করে আসছে। আর এই চাঁদা আদায় করে সন্ত্রাসী ইউসুফ।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD