সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

ফতুল্লায় মসজিদে মসজিদে পুলিশের ভিন্ন ধরনের তৎপরতা

নারায়ণগঞ্জের খবরঃ পুলিশের তৎপরতার কথা উঠলেই ভেসে উঠবে অপরাধী ধরা, জিডি মামলা নেওয়া, রিমান্ডে নিয়ে আসামীর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকা। কিন্তু গতকাল শুক্রবার ফতুল্লা থানা পুলিশ ভিন্ন ধরনের এক তৎপরতা চালিয়েছে। ফতুল্লা থানার বিভিন্ন বড় মসজিদে মসজিদে পুলিশের কর্মকর্তারা জুম্মার নামাজের খুৎবার পূর্বে মাদক, জঙ্গীবাদ, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, বাল্য বিবাহ, জরুরী সেবা-৯৯৯, সামাজিক অনুশাসন, পারিবারিক শৃংখলা সহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে মুসল্লিদের প্রেষণা (মুটিভেশন) দেন।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা রেঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের নিদের্শনায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকার বড় মসজিদগুলিতে জুম্মার নামাজের খুতবার পূর্বে সমসায়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিয়ে মুসল্লিদের সচেতন করেছেন। এর মধ্যে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন ফতুল্লা বাজার জামে মসজিদে, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস,এম শফিকুল ইসলাম বায়তুল আমান জামে মসজিদ, পুলিশ পরিদর্শক এস, এম কামরুজ্জামান মার্কাজ মসজিদ, এসআই শাহাদাৎ হোসেন মধ্যনগর জামে মসজিদ, এসআই এসএম শামীম দাপা কবরস্থান জামে মসজিদ, এসআই আশিক ইমরান পাগলা বাজার জামে মসজিদ, এসআই আবুল হাসান পঞ্চবটি মসজিদ, এসআই মিনারুল কাজী পশ্চিম মাসদাইর বায়তুন নুর জামে মসজিদ, এসআই ইমানুর হোসেন মুসলিমপাড়া মসজিদ, এসআই রওশন ফেরদৌস জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মসজিদ, এসআই ফরহাদ হোসাইন রামারবাগ মসজিদ, এসআই হুমায়ূন কবির-২ পোষ্ট অফিস মসজিদে বক্তব্য দেন। উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করেন। পুলিশের কর্মকর্তার্রা মাদক, জঙ্গীবাদ, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, বাল্য বিবাহ, জরুরী সেবা-৯৯৯, সামাজিক অনুশাসন, পারিবারিক শৃংখলা সহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে মুসল্লিদের প্রেষণা (মুটিভেশন) দেন।

ওসি আসলাম হোসেন ফতুল্লা বাজার জামে মসজিদে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, মাদক হচ্ছে অপরাধের মা। সে অপরাধ জন্ম দেয়। যার মুখে মাদকের ছোঁয়া লাগে সে অপরাধী হবেই। তাই সন্ধ্যার পর সন্তানকে নিয়ে ঘরে থাকুন। এতে সমাজ থেকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ জঙ্গিবাদের মত বড় অপরাধ কমে যাবে। দিনে লেখা পড়া, ব্যবসা বাণিজ্য আর চাকুরী যা কিছু করুক না কেনো সন্ধ্যার পর পরিবারের সঙ্গে থাকলে কেউ মাদকসহ অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়াবেনা।

ওসি আসলাম হোসেন বলেন, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ধরে রাখতে ও পরিবারের মধ্যে মায়া মমতার বন্ধন তৈরী করতে অভিভাবকদের অযথা চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়া কমাতে হবে। অর্থের অপচয় কমে যাবে।

তিনি আরো বলেন, ফতুল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এখন নেই। কারণ এলাকা ভিত্তিক তালিকা তৈরী করে উশৃঙ্খল কিশোরদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত কিশোরদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে দূরত্ব আর সামাজিক অবক্ষয়ের কথা। যার জন্য কিশোররা উশৃঙ্খলা হয়ে কিশোর গ্যাং তৈরী করে অপরাধ করতেন। একই ভাবে অন্যান্য অধিকাংশ অপরাধ গুলোও একই সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। এজন্য সন্তানের প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সন্ধ্যা হলেই পরিবারের সকলকে ঘরে ডেকে নিয়ে আসতে হবে। পারিবারিক সুখ শান্তির বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। তিনি বলেন, যেকোন অপরাধে বা দূর্ঘটনায় যদি থানার নাম্বার কারো কাছে না থাকে তাহলে ৯৯৯ এ ফোন করুন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে ব্যবস্থা নিবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD