শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না কুতুবপুরের আলাউদ্দিন হাওলাদারের

নারায়ণগঞ্জের খবর: একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়ে ফতুল্লার কুতুবপুরে আবারে আলোচনার উঠে এসেছে ছাগল চুরির ঘটনার আলোচিত ব্যাক্তি কুতুবপুর ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন হাওলাদার। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনা স্থানীয় সর্ব মহলে তাকে আবারো আলোচনা- সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত করেছে। নিজ দলীয় অংঙ্গ সংগঠনের একা নেতা কে হত্যার হুমকী প্রদানের অভিযোগ সহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দুই যুবকে মারধরে ঘটনায় তার বিরুদ্বে থানায় দায়ের করা অভিযোগ তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

উল্লেখ্য যে আলাউদ্দিন হাওলাদার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৪,৫এবং৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি।স্থানীয়বাসী জানায় আলাউদ্দিন হাওলাদার এক সময় জুয়াড়ি আলাউদ্দিন নামে সর্ব মহলে পরিচিত ছিলো।ইউপি সদস্য নির্বাচিত হবার হলে তাকে জুয়াড়ি আলাউদ্দিন থেকে মেম্বার আলাউদ্দিন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, সরকার দলীয় নেতা ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য স্ব-শিক্ষিত আলাউদ্দিন হাওলাদার সব সময় আলোচনায় থাকতে পছন্দ করেন।আর তা না হলে কেনো তিনি সমাজ বিরোধী নানা কর্মকান্ডের জন্ম দিয়ে বা নিজেকে জড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরনিত হবেন।তার ছেলে তপনের বিরুদ্বে ও রয়েছে চাঁদাবাজী,জুয়া, মাদক কারবার সহ সমাজ বিরোধী নানা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িতের অভিযোগ।
সূত্র মতে,সব সময় আলোচনা – সমালোচনা থাকা স্ব- শিক্ষিত আলাউদ্দিন হাওলাদার কখনো বা আলোচনায় এসেছেন মাদকের বিশাল চালান সহ মাদক ব্যবসায়ী কে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে,কখোনা বা আলোচনায় এসেছেন সাংবাদিক কে গালমন্দ সহ হত্যা করার হুমকী দিয়ে,কখনো বা আলোচনায় এসেছেন সংখ্যালঘু পরিবাররের বসত ভীটা দখল করার চেস্টার অভিযোগে,কখনো বা আলোচনায় এসেছেন ছাগল চোর আখ্যায়িত করে নিজ কার্যালয়ে দুই যুবক কে পিটিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার মধ্যো দিয়ে এ রকম ঘটনার জন্ম দিয়ে সে বরাবরই ছিলেন আলোচনা- সমালোচনায়।গত এক সপ্তাহে তিন তিনটি ঘটনা স্থানীয় মহলে তাকে আবারো আলোচনার তুলে এনেছে।

চলতি মাসের ১২ তারিখে তার নির্বাচর্নী এলাকা ৫ নং ওয়ার্ডের বেশ কিছু দরিদ্র পরিবারের সদস্য কিছু খাদ্য দ্রব্য বা ত্রানের আশায় তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গেলে তিনি তাদেরকে গালমন্দ সহ গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন।এ ঘটনা তুলে ধরে একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হয়।সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তিনি নিজ দলীয় অংঙ্গ সংগঠনের থানা পর্যায়ের এক নেতা কে হত্যা করা সহ শায়েস্তা করার হুমকী দেন বলে জানা যায়।এ ঘটনায় ফতুল্লা থানা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের নেতা পরিচয় দানকারী ফেরদৌস আল মিঠু বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার স্থানীয় এক পত্রিকা অফিসে উপস্থিত হয়ে আলাউদ্দিন হাওলাদারের বিরুদ্বে একটি লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।এ সময় তিনি বলেন সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় আলাউদ্দিন হাওলাদার তাকে দোষারোপ করে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি(হাওলাদার) ইচ্ছে করলে মিঠুর বাড়ী থেকে তুলে এনে যে কোনো সময় যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে।

অপরদিকে গত বুধবার ( ১৫ এপ্রিল) কাজী ফারুক ও রাসেল আহম্মেদ তুষার নামের দু’যুবক কে মারধর করার অভিযোগে আলাউদ্দিন হাওলাদার সহ একাধিক সন্ত্রাসীর বিরুদ্বে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী রাসেল আমিন তুষার জানায়, অভিযোগ করায় অভিযুক্ত বিবাদীরা আরো বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল(১৬এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশাল বাহিনী নিয়ে তাদের বাড়ীর সামনের রাস্তায় এসে মহড়া দিয়ে যায়।এ বিষয়টি এলাকার মুরুব্বীরা স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং থানা পুলিশকে জানিয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন বিবাদীরা খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক।তারা যে কোনো সময় যে কোনো কিছু করতে পারে তাই তারা অনেকটাই আতংকিত।এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মোফাজ্জল করিম জানান,বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে দোষী প্রমানিত হলে দোষীদের বিরুদ্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আলাউদ্দিন হাওলাদার এ সকল অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ কোনোটাই সত্য নয়। তার বিরুদ্বে আনীত অভিযোগ সবই মিথ্যা।তার বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD