শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন

হাই-বাদলে তৃনমূল নাখোশ

আবদুর রহিমঃ  দীর্ঘ ২৫ বছর পর ঢাকঢোল পিটিয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। সম্মেলনে উপস্থিত হতে দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কয়েকদিন আগে থেকেই। কাউন্সিলরাও নেতা নির্বাচনে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু বিধিবাম, এবারও পছন্দের নেতা নির্বাচিত করতে পারলেন না দলের তৃনমূলের নেতারা। কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেয়া কমিটি মেনে নিতে হয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের।

কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পদে থেকে আঃ হাই এবং শহীদ বাদল প্রসংশার চেয়ে বিতর্কীত হয়েছেন। নানা ইসুতে এই দুই নেতা আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন বছর জুড়ে।  দলের তৃনমূলে প্রত্যাশা ছিল এই দুই নেতার রাহু থেকে জেলা আওয়ামী লীগ এবার মুক্তি পাবে। কিন্তু তা আর হলো। দলের মধ্যে নতুন করে বিভাজন তৈরি করে চাচ্ছে না দলের হাই কমান্ড। সামনে নির্বাচন এবং বিরোধী দলগুলোর সরকার বিরোধী আন্দোলন প্রতিহত, প্রতিরোধ করতে কোন ঝুঁকি নেয়নি দলের নীতি নির্ধারকরা। ফলে আগের কমিটির শীর্ষ দুই পদে কোন পরিবর্তন আনেননি।

আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানান, আঃ হাইয়ের কোন সমর্থক গোষ্ঠী নেই, তিনি এক নেতার নীতিতে একাই পথ চলেন। কর্মীবীহিন নেতা হিসেবে তিনি দলের কাছে পরিচিত। এছাড়া দীর্ঘদিন পদে থাকাকালীন সময়ে দলের হয়ে একক ভাবে নিজ যোগ্যতা কিংবা শক্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়নি। তাঁর একক নেতৃত্বে কোন মিছিল নিয়েও দলের কর্মকান্ডে অংশ নিতে দেখা যায়নি ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতাকে। তবে তাঁর একটাই পরিচয়, তিনি আওয়ামীলীগের  প্রবীন নেতা।

অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদকের পদ দখলে রাখা ভিপি বাদল দীর্ঘদিন ধরে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদটিও নিজের দখলে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থেকে তিনিও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে থাকার পরও তাঁর গন্ডি ছিল শহর কেন্দ্রীক। মাঝে মধ্যে বন্দর প্রীতি দেখা যায় তাঁর মধ্যে। দলের কর্মকান্ডে তিনি একক শক্তি প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কর্মী বাহিনী তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছেন এমন দাবি দলের নেতাকর্মীদের। তাঁদের মতে, সরকারি তোলারাম কলেজের তিন বারের ভিপি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, জেলা যুবলীগের দেড় যুগের সাধারণ সম্পাদক একাধারে জেলা আওয়ামী লীগেরও সাধারণ সম্পাদক হয়ে তিনিও অনেকটা কর্মী বিহীন নেতা হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন। তবে দু’জনেই দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    © All rights reserved © 2023
    Design & Developed BY M Host BD