হাসপাতালে অনিয়মের সাথে জড়িতদের শাস্তি চান সেলিম ওসমান

217

নারায়ণগঞ্জের খবরঃ নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নারী সহ ১৯ জন দালালকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাদা পোশাকে র‌্যাব হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও জরুরী বিভাগে অভিযান চালায়।

আটককৃতদের মধ্যে যাচাই বাছাই করে ৯ জনকে মুচলেকা দিয়ে এবং একজন অসুস্থ্য থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়। আর বাকী ৯ জনকে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৭ দিনের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন দুলাল হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম, ফরিদ, আব্দুল খালেক, রিপন, ইব্রাহীম, বাদল মিয়া, মাকসুদা ও আব্বাস উদ্দিন।

এদিকে অভিযান চলাকালে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করনের লক্ষ্যে সরকারী অর্থায়নে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের নকশা পরিবর্তন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের একটি সভায় যোগদিতে হাসপাতাল উপস্থিত হয়ে ছিলেন এমপি সেলিম ওসমান। তিনি জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

আটককৃতদের যাচাই বাছাই ও দালালের দৌরাত্ম বন্ধ করতে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরে দালালদের দৌরাত্ম ও অনিয়ম ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমান আদালতের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। আজকে প্রাথমিক ভাবে শাস্তি কম দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে শাস্তির মেয়াদ আরো বৃদ্ধি করতে হবে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউ যদি কোন প্রকার অনিয়মের সাথে জড়িত থাকেন এবং অভিযোগের প্রমান পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। যে কোন কিছুর বিনিময় হাসপাতালটিকে দালাল ও অনিয়ম মুক্ত করতে হবে।

পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের বর্হিবিভাগের যারা সেবা নিতে আসবেন এখন থেকে সরকারী নিয়ম অনুয়ারী অবশ্যই তাদের পরিচয় পত্রের ভিত্তিতে টিকিট দিতে হবে। যাতে করে কোন দালাল বেনামে টিকিট সংগ্রহ করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হয়রানী করতে না পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় দালালরা টিকিট কেটে রোগী পরিচয়ে হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করে থাকে। সেজন্যই পরিচয় পত্রের ভিত্তিতে টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এক্ষেত্রে জরুরি রোগীদের বেলায় এ নিয়মটি শিথিল থাকবে। এছাড়াও হাসপাতালের অভ্যন্তরে দুটি রেজিস্ট্রার কক্ষ নির্মাণের জন্য নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির খালেদ হায়দার খান কাজলকে দায়িত্ব দিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসুমী মান্নান ও শেখ মেজবাহ উল সাবেরিন। তাদের সহযোগীতায় ছিলেন র‌্যাব-১১ এর সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সামসুদ্দৌহা সহ ব্যাবের কর্মকর্তারা।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডাক্তার আবু জাহের, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার শামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয় সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

নিউজটি শেয়ার করুন...